মঙ্গলবার, রাত ৩:৪৭, ১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৫ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি
ভোলা ট্রিবিউনের পক্ষ হতে সকলকে জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
জাতীয় | আন্তর্জাতিক | ভোলা সদর | দৌলতখান | বোরহানউদ্দিন | লালমোহন | তজুমুদ্দিন | চরফ্যাশন | মনপুরা | ভোলার ইতিহাস ঐতিহ্য | বিশেষ সাক্ষাৎকার | প্রবাসীদের কথা | পাঠক কলাম |

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব, ভোলায় হাজার হাজার মানুষ পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে

আপডেট : মে, ২৬, ২০২১, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ

:

শিমুল চৌধুরী:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জোয়ারের অস্বাভাবিক পানি বেড়ে যাওয়ায় এবং কোথাও আবার বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় পানির নিচে তলিয়ে গেছে উপকূলীয় দ্বীপ জেলা ভোলার অন্তত ৬টি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম। এতে করে পানিবন্দি রয়েছে হাজার হাজার মানুষ। পানিবন্দি এসব মানুষ এখন পানির মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে। তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী উচ্চতায় প্রবাহিত হওয়ায় বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। এতে করে ভোলা সদর উপজেলা, বোরহানউদ্দিন, দৌলতখান, তজুমদ্দিন, চরফ্যাশন ও মনপুরা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের হাজা হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছে।
বুধবার ভোররাতেও জোয়ারের পানিতে নতুন করে নতুন  নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। নতুন করে পানির নিচে তলিয়ে গেছে সাগর উপকূল বেষ্টিত চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ইউনিয়নের অন্তত ১০ হাজার মানুষ।
ওই এলাকার ৫০টি দোকান ও মাছের আড়ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম হাওলাদার জানান, পুরো চরটি প্রায় ৫ ফুট পানির নিচে ডুবে আছে।
ওই উপজেলার চর কুকরি-মুকরি ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসেম মহাজন জানান, কুকরি-মুকরি, চর পাতিলা, কচুয়াখালীর চরসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে বেশ কয়েকটি গ্রাম। ফলে হাজার হাজার মানুষ পানির মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।
মেঘনা নদীর স্বাভাবিকের চেয়ে ৩-৪ ফুট উচ্চতায় জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় তজুমদ্দিন উপজেলার চর-নাছরিন, চর-মোজাম্মেল, সিডার চর, চর শাওন ও চর জহিরউদ্দিনের নিন্মাঞ্চল। এসব বিচ্ছিন্ন চরগুলোতে কোন টেকসই বাঁধ নির্মিত না হওয়ায় ঝড় জলোচ্ছাসে ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা। স্বাভাবিকের চেয়ে ৩-৪ ফুট জোয়ারের ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়ে এসব চরের প্রায় ২০ পরিবার। এতে প্রায় অসংখ্য ঘড়-বাড়ির আঙ্গিনা পানিতে ডুবে গেছে। অনেকের গরু-ছাগল ও মহিষ জোয়ারে ভেসে গেছে। পুকুরের বাঁধ ডুবে মাছ চলে গেছে। জোয়ারের পানি নেমে গেলেও বেশকিছু এলাকায় পানি আটকে আছে।
সিডার চরের বাসিন্দা “চরের মানুষ ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’র এর খবর জানেই না। আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া বা দুর্যোগকালীন সচেতন থাকার বিষয়ে কোন সংস্থা আগে থেকে প্রচার করেনি। ফেসবুকে ঘূর্ণিঝড়ের কথা জেনে ব্যক্তি উদ্যোগে আমরা কয়েকজন কিছু মানুষকে বলি। পরে তারা গবাদিপশুগুলো মুজিব কেল্লায় নিয়ে রাখে।”
চর নাছরিনের বাসিন্দা মোঃ শাকিল জানান, মঙ্গলবার বিকেলে সিপিপি’র কয়েকজন সদস্য মুখে মুখে ঘূর্ণিঝড়ের বার্তা দিচ্ছে। এখানে উচু কোন সাইক্লোন সেল্টার না থাকায় চরের বসবাসরত মানুষগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে। সংকেত বাড়ার সাথে সাথে তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া প্রয়োজন।
চর মোজাম্মেলের আরিফ হোসেন জানান, বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও মাছের ঘের। বেশ কিছু কাঁচা ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
অতি জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের।
তজুমদ্দিন সিপিপি’র সহকারী পরিচালক মাজহারুল হক জানান, চর নাসরিনে সিপিপির একটি টিম মঙ্গল বার বিকেল থেকে কাজ শুরু করেছে। প্রতিটি চরের মসজিদের মাইকে মানুষকে সতর্ক থাকার জন্য বলা হচ্ছে। এখন স্থানীয় সতর্ক সংকেত এর সময় মুখে মুখে প্রচারের বিধান, পরবর্তীতে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপ্রকৃতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় প্রচারণা চলবে। দুর্যোগকালীন ও পরবর্তী সময়ে মোকাবেলা করতে সিপিপি প্রস্তুত আছে।
উপজেলা নির্বাহি অফিসার পল্লব কুমার হাজরা জানান, এসব চরগুলোতে ঘূর্ণিঝড়ে সকর্ততা প্রচারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সার্বিক পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টি রাখছে। যেসব স্থানে আশ্রয় কেন্দ্র নেই সেখানে উঁচু ও নিরাপদ স্থানে আশ্র্র্রয় নিতে বলা হচ্ছে।
ঘূ‌র্ণিঝড় ‘ইয়া‌স’ র প্রভা‌বে দৌলতখান উপজেলার মেঘনা নদীর পা‌নি বৃ‌দ্ধি পেয়ে ভবানীপুর, চরপাতা, সৈয়দপুর, মেদুয়া মদনপু‌র ও হাজিপুর ইউ‌নিয়‌নের ৩০টি গ্রাম প্লা‌বিত হ‌য়েছে। এতে পা‌নিব‌ন্ধধি হয়ে পড়েছে প্রায় ৬ হাজার মানুষ। এ ছাড়াও জোয়ারের পা‌নি‌তে  কৃষকের ফস‌লি জ‌মি, হাঁস, মুরগী, পুকু‌রের মাছ ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির স্বীকার হয়েছেন।
আজ বুধবার ভোর থে‌কে দুপুরে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দৌলতখান উপ‌জেলার ওই সব ইউ‌নিয়‌নের ৩০‌টি গ্রাম প্লা‌বিত হয়।
সৈয়দপুর ইউ‌নিয়‌নের চেয়ারম‌্যান জি.এস ভূট্টু তালুকদার জানান, ঘূর্ণিঝড় ” ইয়াস”র প্রভাবে মেঘনা নদীর পা‌নি ব্যাপক পরিমাণ বৃ‌দ্ধি পে‌য়ে সৈয়দপুর ইউ‌নিয়‌নের ৬,৭,৮, ও ৯ নং ওয়া‌র্ডের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হ‌য়ে‌ছে। এ‌তে প্রায় ৬শতা‌ধিক ঘর-বা‌ড়ির ত‌লি‌য়ে গে‌ছে। এ‌তে পা‌নিব‌ন্ধি হ‌য়ে মানবতার জীবনযাপন করছেন প্রায় ২ হাজার মানুষ।
তি‌নি আ‌রো জানান, ওই গ্রামগু‌লোর বেশ ক‌য়েক‌টি পুকুর ও ঘেড়ের মাছ পা‌নি‌তে ভে‌সে গে‌ছে। ত‌বে ক্ষয়ক্ষ‌তির প‌রিমাণ সঠিকভাবে নির্ধারণ করা যা‌চ্ছে না।
অপর‌দি‌কে, ভবানীপুর ইউ‌নিয়‌নের চেয়ারম‌্যান গোলাম নবী নবু জানান, অ‌তি মাত্রায় জোয়া‌রের পা‌নির চা‌পে আমার ইউ‌নিয়‌নের বেশ ক‌য়েক‌টি গ্রাম প্লা‌বিত হ‌য়ে‌ছে । এ‌তে পানিব‌ন্ধি হয়ে প্রায় ১ হাজার মানুষ জীবনযাপন করছেন।  এছাড়াও পা‌নি‌তে ত‌লি‌য়ে  কৃষ‌কের ফসলি জমির, পুকু‌রের মাছ ও হাঁস মুরগী ভেসে যাওয়ার খবর পেয়েছি।
দৌলতখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক হাওলাদার জানান, এই উপকূল অঞ্চলে ভারী বাতাস ও হালকা বৃষ্টি দুটোই আছে। তবে, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে অন্তত ৪ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস হয়েছে। জোয়ারের পানির তোড়ে দৌলতখান উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে। তবে, বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। জোয়ারের পানিতে বহু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে পুলিশ,সিপিপি,রেডক্রিসেন্ট,ফায়ার সার্ভিস ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
মনপুরা উপজেলার চেয়ারম্যান সেলিনা চৌধুরী জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস এর প্রভাবে মনপুরা উপজেলার লঞ্চঘাট সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া মনপুরা উপজেলায় বেড়িবাঁধ ছুটে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। শত শত পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে মেঘনার জোয়ারের পানি ঢুকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড় মানিকা ইউনিয়নের ৬,৮,৯ নং ওয়ার্ড এবং হাসান নগর নগর ইউনিয়নের হাকিম উদ্দিন বাজার পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
এদিকে ঝড়ের কারণে অনেকে মূল ভু-খণ্ডে আশ্রয় নিলেও অনেকেই রয়েছেন দ্বীপে। তাদের মধ্যে এক হাজার মানুষ স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি ভবন, কোস্ট অফিস ও ফরেস্ট অফিসের ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন।
তাদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
জোয়ারে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। পানির নিচে রয়েছে রাস্তাঘাট, ঘর বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ভেসে গেছে মাছের ঘের ও পুকুর। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজিত হাওলাদার আজ বুধবার দুপুরে জানান, জোয়ারের পানিতে যে সব এলাকা পানিবন্দি রয়েছে ভাটায় আবার সে সব এলাকার পানি নেমে গেছে। তবুও পানিবন্দি ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা নিরুপন করে তাদেরকে সহায়তা দেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য এই বক্সে লিখুন

উপদেষ্টা: মো.নকীব তালুকদার
উপদেষ্টা সম্পাদক: আবুল কালাম আজাদ,সাংগঠনিক সম্পাদক,বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম(বিএমএসএফ) ঢাকা।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক-মো.জাহিদুল ইসলাম দুলাল,সভাপতি লালমোহন জার্নালিষ্ট ফোরাম,ভোলা।
সম্পাদক: মো.শিমুল চৌধুরী
প্রকাশক:আরিফুর রহমান(রাহাত)
অফিস: ৭২৪,১ম তলা প্রেসক্লাব ভবন,ভোলা।
লালমোহন অফিস: ১২ নং ওয়ার্ড লালমোহন পৌরসভা,ভোলা।
বার্তা কক্ষ ই-মেইল: [email protected]
মোবাইল: ০১৭১৫-২৬১৬৪৫

প্রতিষ্ঠাতা: মোঃ মহির উদ্দিন (মাহিম)

কারিগরি সহায়তা: Next Tech

শিরোনাম :
★★ নেক্সাস ৯৩ বন্ধুদের প্রীতি আড্ডা অনুষ্ঠিত ★★ ভোলায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান, ৮ জনকে ২৬০০ টাকা জরিমানা ★★ ভোলায় বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে, সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা ★★ বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশন ভোলা জেলা শাখার চেয়ারম্যান এমপি শাওনকে অভিনন্দন ★★ ভোলার মনপুরায় নারী মাদক কারবারী গ্রেপ্তার, ইয়াবা উদ্ধার ★★ লালমোহনের কবি সাংবাদিক নুরুল আমিনের লেখা জেগে উঠি জাগিয়ে তুলি পাঠকের দ্বারপ্রান্তে ★★ দৌলতখানে উত্তোরণ’র’ উদ্যোগে বিতর্ক কর্মশালা ও বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ★★ কোষ্ট ফাউন্ডেশনের ভার্চুয়াল সভায় উপকূলীয় সুরক্ষা শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন এমপি শাওন ★★ ভোলায় নিখোঁজ স্কুলপড়ুয়া দুই ছাত্রীকে, ৫ দিন পর ঢাকা ও গাইবান্ধা থেকে উদ্ধার ★★ ভোলার চরফ্যাশনে, বিষপানে যুবতীর মৃত্যু